Tuesday, May 21, 2024

কবিতা - তিনটি কবিতার কথা : কবি - নীলাভ সৌরভ

তিনটি কবিতার কথা

মূল অসমিয়া : নীলাভ সৌরভ

বাংলা অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুরী 


একটি কবিতা ধাক্কা দিল অন্য একটিকে

মুখের দিকে তাকিয়ে দুজন দুজনকে চিনতে পারলো

একটি ছিল প্রেমের অন্যটি বিচ্ছেদের

বাজার-ঘাট ইত্যাদির মাঝে কবিতায় কবিতায় 

সাথে দেখা হয় নি অনেকদিন

কারও ঘরের বুকসেলফে অথবা বিক্রি না হাওয়া

বইয়ের মাঝ থেকে সুরুঙ্গে লুকোয়

কখনও হয়তো বাইরে আসে


কোনওটা কাব্যসভার মাইক্রোফোন থেকে

কোনওটা খুলে রাখা বইয়ের পাতা থেকে

বেরিয়ে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছিল শহরে 


হঠাৎ এসে একটি বিচ্ছেদের কবিতার সাথে

মুখোমুখি হলো একটি প্রেমের কবিতা 

প্রেমের কবিতা প্রেয়সীর কথা বললো অনেক

উপমা দিয়ে

বিচ্ছেদের কবিতা প্রেমের পিছু পিছু পথ নিল

কখনও প্রেম এবং বিচ্ছেদের এভাবে দেখা হবে

বলে ভাবেনি কেউ

সময়ের তীব্রতা কমিয়ে আনলো দুজনের দূরত্ব


বিচ্ছেদের কবিতা ঘামে ভিজে ছিল 


প্রেমের হর্ষ ও বিচ্ছেদের চোখের জলে পুরস্কারপ্রাপক আনন্দমেলা ও শোকসভায় উচ্ছেদের স্থান আবর্জনায় 


মাঠের

মাটির

নদীর

পুষ্করিণীর 

কাদার শব্দেও উচ্ছেদ বন্ধুত্ব করতে

পারলো না

প্রেম এবং বিচ্ছেদের সাথে।


প্রেমকে আঁকড়ে ধরে প্রেম

বিচ্ছেদকে আঁকড়ে ধরে সহানুভুতি

উচ্ছেদ শীতে কেঁপে কেঁপে একটি হৃদয়

খোঁজতে থাকে 


প্রেম ও বিচ্ছেদের কবি

সভা শেষ করে প্রীতিভোজ খায়

কলম তুলে রেখে ঘুমায়

চাকরী-বাকরি করে

পড়া-শুনা করে

সময় কম

এবং একটু চালচুলোহীন..


উচ্ছেদের কবি

রোদে শুখিয়ে চামড়া কালো করে

বন্যায় পরে কোমর ভাঙ্গে

শীতে থরথরিয়ে কাঁপে 


মাটির ফসল এবং জলের মাছেদের সাথে বন্ধুত্ব করেও হাবুডুবু খায় উচ্ছেদের কবি 


মানবীয়তার আলোচনায় চেয়ার খালি করে

সহানুভুতি তোষামোদের সভায় কবি বসে থাকতে

থাকতে কবিতা পালিয়ে গেলো অনেকের 


এবং তদারকী করা অনেক আলোচকের একই 

স্থানে

চুলকিয়ে থাকা দাদ 


তিনটি কবিতা আলাদা আলাদা হয়ে

দুটি গড়াগড়ি গেলো।


কবিতা - দূগ্গা : কবি - নীলাভ সৌরভ

 দূগ্গা


নীলাভ সৌরভ

বাংলা অনুবাদ : মুনমুন সরকার



দূগ্গার একটি 'স্বনির্ভর গোষ্ঠী' আছে

দূগ্গা সেখান থেকে ঋণ নিয়েছে



দূগ্গার হাতে হাতা

দূগ্গার হাতে বটি

দূগ্গার দশ হাতে দশরকম কাজ



সাধন সুধোয় - মুদ্রাস্ফীতি মানে কি দূগ্গা

দূগ্গা জবাব দেয়

নুন আনতে পান্তা ফুরায়

ঘরে যে নুন ছিলো গলে শেষ

ফিরবার পথে নিয়ে এসো



অসুরেরা ঈশ্বরের মুখোশে নাচছে

ময়লা কাপড়ে দূগ্গা জিলাপি বিক্রি করছে



সাধু রাতে ফেরে

দুই ঢোক চোলাই মদ বেশি করে গিলে এইকয়দিন

টি.ভির দোকানের পোস্টার ও ছিঁড়ে ফেলে আসে

কুমারী ঠোঁটে বাবা বলে অস্পষ্ট ডাক দূগ্গার



দূগ্গার মেরুদন্ড সত্য ভেঙে ফেলেছে

ডগমগে সিঁদুরের ফোঁটায় বন্দনারত দূগ্গা কাঁদছে

দূগ্গা নিজের জন্য দুপয়সা জমা করলেই

জুয়াড়ি ভব তা ছিনিয়ে নেয়



ছোট্ট ঘরের দূগ্গার এই বন্দনায়

বড় ঘরের দেবতারা অংশগ্রহণ করেন না

দূগ্গার ভাগের চাল ডালের

দূগ্গার গ্রামের পঞ্চায়তের

দূগ্গার রাস্তায় পুলের

দূগ্গার স্কুলের , হসপিটালের টাকা

আত্মসাৎ করে

পুজোর বাজারে বড় দেবতারা গাড়ী কিনেছে

লক্ষী নামের নিজের ঘরের দেবীর জন্য শাড়ি কিনেছে



বড় ঘরের দেবীমূর্তি হাজার বিঘা মাটিতে গঢ়া

দূগ্গা এতো শত জানেনা

সে ছোটোবেলা ছোট্ট একটি স্কুলে দুটো ক্লাস পড়াশোনা করেছিল

তাই দশ টাকার বেলুন দুটো দূগ্গার

বিশ টাকার খেলনা দুটো দূগ্গার

চল্লিশ টাকা দামী মিষ্টি দু-চারটে দূগ্গার



দূগ্গার যারা ক্ষতি করেছে সেই অসুর নাশের জন্য

ঈশ্বররূপী অভিনেতা

ন্যায় আশা করে বসে আছে

আরও কয়েকজন ভক্তরূপী অভিনেতা



মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছে বলে

কারাজেনো বলেছিল

কিন্তু মানবতার বুরঞ্জীতে তারা নেই

উপাসনা ও বিধি বিধানের মন্ত্র ফুঁকে

তারা সবাই দূগ্গার নামে উৎসব পালন করতেই থাকে

এবং বুরঞ্জী বলে নিজের নামে

মিথ্যে কথা লেখে থাকে



দূগ্গা দলে আলোচনা করে

এদিককার ঋণের টাকাটা পেলেই

ওদিককার ঋণের বাকীটা পরিশোধ করে দেব



রাজা-মন্ত্রী-সন্তরীর আগমনে শংখ বাজছে

আমাদেরো পায়ের তলার মাটি খসে গেছে

আয় দূগ্গা , আমরাও জয়ধ্বনি দেই

তানাহলে আমাদের ধর্ম বিপদে পড়বে।





কবিতা - বিকল্প : কবি - নীলাভ সৌরভ

 বিকল্প 



মূল অসমীয়া- নীলাভ সৌরভ 

অনুবাদ - মুনমুন সরকার





মাটির শক্তি বেশি না বাতাসের

নীর জিগ্যাস করলো


পৃথিবীটা একটা মাটির লাড্ডু 

বাতাসে ভেসে থাকে

ওর ভীষন ভালো লাগলো



 কতোগুলো মাটির লাড্ডু বানিয়ে ও ওপরে ঢিল মারতে লাগলো


কবিতা - অমিল : কবি - নীলাভ সৌরভ

 অমিল


নীলাভ সৌরভ৷

বাংলা অনুবাদ : মুনমুন সরকার



কখনো কখনো এমন মনে হয় না যে নামটার সাথে ফুলটার কোথায় যেনো মিল নেই


আকার আর রংটা

নদী আর ঘাটটা

মনে হয় শুধু বৃষ্টির নামটাই ঠিক।




মানুষটার সাথে নামটা মিলল না 

নামটার সাথে চেহারাটা 

চেহেরাটার সাথে বৌটাও  মিলল না।




মানুষটার সাথে চাকরিটা 

মহিলাটির সাথে  'ব্লাউজের কাট' টা

বয়সের সাথে 'টি- সার্ট 'টা

'জীন্সের সেলাই' টা সামান্য ঢিলা হলে ভালো হতো




অংকের অমিল কথাটা

বুদ্ধি করে অংক মেলানো যায়

মেলানোর নিয়ম থাকে



প্রাকৃতিক কথাগুলো মিলল না বলে ভাবাটা আপনার অমিল।

নিজেই ভাবুন তো কি কি মিললো না আপনার

আপনার আর স্বপ্নার  রাশি মেলানো যোরা



অনুরাধা হলে হয়তো মিলতো

কিংবা স্বপ্না যদি আরেকটু রোগা হতো

কথার সুরটা যদি একটু অন্যরকম হতো

বিয়ের তারিখটা যদি




ইচ্ছে থাকলেও ভালো নাবাসা প্রেমিকটা

যাকে ভালোবাসে সেই ছেলেটির 'পাইট'/ আদব কায়দা

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলে চাকরি থাকা বর টা মেলেনা । কারোর নাক। কারোর চুল। কারোর বয়স।

কারোর কারোর গায়ের রং কিংবা শরীরের গঠন।

কিংবা খৈনি খাওয়ার অভ্যেসটার সাথে নিরাপত্তার কথাটা




নিয়ম ধরে মেলাতে হবে বলে বাবার সুদীর্ঘ চিন্তাকাল 

অমিলের সাথে মিলে যেতে নিজের প্রতিবাদী আকাল



সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে মার ভাবনা

আমার ছেলেটা ভালো



বৃষ্টি আসার সময়টা বেঠিক মনে হয়

কিন্তু বৃষ্টি নামটা সঠিক



যিনি রাষ্ট্রপতি তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে লাগছিলো। মিললো না


মানুষটা ভালো, 

টাইটেলটা আলাদা হতে লাগছিলো




কিছুই মিলে না

মেলাতে গিয়ে বনছাই

মেলাতে মন যায়।।


কবিতা - অসাধারণ : কবি - নীলাভ সৌরভ

 অসাধারণ


নীলাভ সৌরভ

বাংলা অনুবাদ : মুনমুন সরকার




ঘুড়ি উড়ানো ছেলেদের জন্ম দেওয়া স্বপ্নধারী ধৈর্য্যশীল নিঃশ্বাসগুলো

লাইন ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখা অপেক্ষা গুলো

রোদ বৃষ্টিরা যাদের পোষে সেই  হাতগুলো



ভূমিকম্পে ফেটে যাওয়া কলজে গুলো

বন্যায় ভুরা বানাতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া সাঁতার গুলো



রেল এবং বাছে আবদ্ধ পানের বুকগুলো

গো ধূলোয় ঢেকে থাকা রাত্রিগুলো



পুরোনো সাইকেলে চড়ে সকালে বেরোনো

পানের পেচকির সূর্য গুলো

তারই রঙে ঘুরে থাকা চরখির পেঁচানো/পাক লাগানো যাত্রাগুলো

মাঠের অস্ত্রধারী সবুজ বিপ্লবগুলো

সন্তানের বই, সিলেট কিনে দেওয়া সুখগুলো

সফল সন্তানের অপেক্ষায় মরে যাওয়া অসুখগুলো

ছেলে মেয়ের টক্করের কথা  না জানা ধাঁধা গুলো



ঈশ্বর হিসেবে মাথা উঁচু করে দেওয়া আকাশে গুলো

লাইন পেতে বিফল হওয়া হাহুতাশ গুলো

সফলতার ছোট্টো একটা কণাকেও সোনার মতো ভাবতে পারা  সোনারিরা



রাগে গোলা ফাটিয়ে করা চিৎকারগুলো

আনন্দে চেঁচিয়ে লাফিয়ে উঠা ঝকঝকে হাঁসি গুলো



হেঁটে হেঁটে  কুপথকে পথ বানানো পথিকেরা

শহরে হেঁটে উস্টো খাওয়া বেগ গুলো

ঠেলা কিংবা রিক্সায় নিজেকে সামনের দিকে টানা শক্তি গুলো, তুলসী তলায় নিভে যায় । জ্বলে সমকাল



উত্তরের লোহারদের কাছে ছেড়ে আসা লাইন কে লাইন ইতিহাস গুলো

শিরায় শিরায় শিপিয়ে যাওয়া নদীর শিপাগুলো 

লোকগীতির লোক।।


কবিতা : ব্যথা । কবি : নীলাভ সৌরভ

 ব্যথা


নীলাভ সৌরভ

বাংলা অনুবাদ : মুনমুন সরকার




বাতাস বয়ে চলেছে

গাড়ীর গতি ঠেলে ফেলে চলে যায় উঠোনে

অথচ নিঃশ্বাসে তুমি নিতে পারো নি




বাগান একটাকে ঝুলিয়ে থাকার সময় তোমাকে দেখেছি 

আমাকে নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারনি



ঘোড়া ছুটিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি 

ভালোবেসে থাকাটাও তোমায় দেখাতে শিখিনি



ফোনে বলছ কোনো জোগাড় নেই

বাজারে বার বার চেষ্টা করেও কিছু কিনতে পারছি না


সামনেই   কাপড় বদলাচ্ছ

জাপটে/জড়িয়ে ধরতে পারছি না

বিছানার এক দিকে তুমি জেগে আছ 

ঘুমানোর অভিনয় করেও আমি শান্তিতে শুতে পারছি না



তোমার কাছে যেতে পারছি না

মধ্যখানে হিমালয়

কোলে মাথা রেখে শুতে পারছি না

 সমস্ত গান শিলাময়


কথার ঘোরপাকে মাথাটা এক জায়গায়  থাকছে না 



হোয়াটছ এপে ঝগড়া করছি 

শান্তিতে থাকতে পারছি না


শীত এসেছে

গরম কাপড় কিনতে পারছি না 

পোস্ট একটা দিলাম ফেসবুকে 

লাইক এবং কমেন্টে আত্মিক স্পর্শের প্রমাণ পাচ্ছি না


তুমি হয়তো ভাবছ 

এতোটা টানাটানির মধ্যে কবিতা কি করে লিখে যাচ্ছি?

বিশ্বাস করো কবিতা বাদে আর কিছুই আসছে না।




৷৷দুই৷৷



বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে 

সিগারেট একটাও ভালোভাবে টানতে পারছি না


বাতাসকে দিয়ে দিয়েছি গিলতে না পারা ধোঁয়া গুলো

নিজেই উরে যাই কুণ্ডলী পাকিয়ে


আনন্দে একটা পেগ ঢালতে পারছি না 

মদ এক ঢোঁক গিললেও

মুখ বেঁকিয়ে ভেঙ্গাচ্ছি নিজেকে




মারা যাওয়া পয়সা

আর ফেরত আসেনি 


মা আমায়  ফোন করে কোনো ভালো ব্যবহার পায়নি

বাবা অনেকদিন আমার খবর নেন নি

আমরাই জানি আমাদের কতো অসুবিধে

সময়েতো নাজানে

সময়তো জানেনা


উৎসবগুলো আসতে থাকে পাশের বাড়ীর ক্যালেণ্ডার দেখে


অসুস্থ তোমার বাবা

একলা তোমার মা


আমার মা-বাবার চোখ-পাখী উরছে কি?


এতো হলস্থুলে খবর নেওয়ার সময় পাইনি



তোমার  কাজল এখনো আছে কি

অনেকদিন তোমার চোখের দিকে তাকাইনি


তুমি আশ্চর্য হবে নদীটা পার বেয়ে উঠে আসে মাঝে মাঝে 

আমি স্নান করতে পারি না



দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকাতে পারছি না 

ধান খেত থেকে পাখীদের তাড়াতে পারছি না



আসলে কি জানো, কিছুদিন যাবত

বেঁচে থাকতে পারছি না।।


Monday, May 20, 2024

Poetry : By Neelav Saurabh

 Poetry 



By Neelav Saurabh 


Translated by Gayatri Devi Borthakur.(from assamese)




Sleepless sail 

Sleepless river 

 And sleepless is the delicate earth 


The eyes of a sailor resoluted 

with a desire to sink 

  In the  tempting navel of an   unknown  sleepless woman 


Halted feet


Carefully listened the coo of  the pigeons 



Pen in a lariat


Transfer picture in  a  pen



The mango tree of the entrance still not blossomed 


Will blossom with time 


Mangoes will be  in many clusters 


 Also will rot


Said a woodpecker 


The poet scattered his   heart - canopy to welcome rain 

 And damped his sun-burned    back 




Searching here and there 

A Sparrow is gathering straws..


Bishnuprasad Rabha: The Renaissance Man of Assam

 Bishnuprasad Rabha: The Renaissance Man of Assam ( Brief Description : Bishnuprasad Rabha (1909-1969) was a multifaceted personality from ...